<![CDATA[Boierdokan - boiniye]]>Thu, 19 Nov 2015 05:41:31 -0800Weebly<![CDATA[কেন আমি মো ইয়ান ]]>Fri, 12 Oct 2012 11:21:11 GMThttp://boierdokan.weebly.com/boiniye/4Picture
লেখক হওয়ার পেছনে প্রত্যেক লেখকের নিজস্ব কারণ থাকে, আমিও এর ব্যতিক্রম নই। কিন্তু কেন আরেকজন হেমিংওয়ে বা ফকনার না হয়ে আমি আমার মতো লেখক হলাম? আমার ধারণা, শৈশবের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এর যোগ আছে। শৈশবের অভিজ্ঞতা আমার লেখক জীবনে আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে, লক্ষ্যে স্থির থেকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যুগিয়েছে। ৪০ বছর আগে ষাটের দশকের শুরুর চীনকে ফিরে দেখলে উদ্ভট একটা সময়কে খুঁজে পাই, সেটা ছিল অভূতপূর্ব উগ্র একটা কাল। একদিকে, এই বছরগুলো দেশকে অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুষ্ঠিবদ্ধ অবস্থায় প্রত্যক্ষ করেছে, সঙ্গে ছিল ব্যক্তিক বঞ্চনাও। মানুষ মৃত্যুকে দুয়ার থেকে দূরে রাখতে লড়াই করেছে, খাবার ছিল সামান্য, বস্ত্রের জন্য বরাদ্দ ছিল ত্যানা। অন্যদিকে, এটা ছিল নিবিড় রাজনৈতিক প্রত্যয়ের স্বপ্নে বিভোর এক সময়। অভুক্ত মানুষ এ সময় শক্ত করে বেল্ট বেঁধে কমিউনিস্ট নিরীক্ষায় পার্টিকে সমর্থন জানিয়েছিল। তখন ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর থাকলেও আমরা নিজেদের ভেবেছি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ হিসেবে। বিশ্বের অধিবাসীদের দুই তৃতীয়াংশ আমরা। ভীষণ কৃচ্ছতার মধ্যে থেকেও তখন বিশ্বাস করেছি- এটি আমাদের পবিত্র দায়িত্ব, যারা ভোগান্তির সমুদ্রের মধ্যে ডুবছে তাদের রক্ষা করার উপায়। আশির দশকে চীন বিশ্বের দিকে দরজা খোলা পর্যন্ত চললো এসব, অবশেষে আমরা বাস্তবতাকে মোকাবেলা করতে শুরু করলাম। যেন স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে এলাম।

শীঘ্রই আমি শিখে গেলাম কীভাবে নিজের সঙ্গে কথা বলা যায়। আমি রপ্ত করলাম আত্মপ্রকাশের অসাধারণ রীতি- মূহুর্মূহু বলতে পারে শুধু বাগ্মীতা সহকারে নয় এমনকি কবিতাতেও যা প্রকাশিত হতে পারে। একবার মা শুনে ফেললো, আমি গাছের সঙ্গে কথা বলছি। গভীর চিন্তায় পড়ে তিনি বাবাকে বললেন, পুত্রের পিতা, তোমার কি মনে হয় না ওর কোনো সমস্যা হয়েছে? পরে যথেষ্ট বড় হওয়ার পর আমি বড়দের সমাজে ঢুকলাম শ্রমিক ব্রিগেডের একজন সদস্য হিসেবে। তখনও পুরনো অভ্যাস বশত গরু চরানোর সময় আমি নিজে নিজে কথা বলতাম। এটা আর কোনো সমস্যা তৈরি না করলেও আমার পরিবারে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ালো। আমার মা অনুরোধ করে বললেন, পুত্র, তুমি কি কখনো কথা বন্ধ করলে পারো না? তার মুখভঙ্গিতে আমার চোখে পানি এসে গেল, আমি কথা দিলাম কথা বন্ধ করবো। কিন্তু ওই মুহূর্ত থেকে সব কথাই আমি জমা করেছি ভেতরে, ইঁদুরেরা যেভাবে বাসা ভরিয়ে তোলে নানা কিছুতে। সেটার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল তীব্র অনুশোচনা ও উপচে পড়া অনুভব যে আমি আমার মায়ের অনুজ্ঞাকে অন্তরে জায়গা দিতে পারিনি। এ কারণেই আমি মো ইয়ান বা কথা বলো না শব্দগুলোকে আমার ছদ্ম নাম হিসেবে বেছে নিয়েছি। তখন আমার ধৈর্যহারা মা প্রায়ই বলতেন, কুকুরকে পশুবিষ্ঠা থেকে দূরে রাখা যায় না, নেকড়েকেও মাংস খাওয়া থেকে বিরত রাখা সম্ভব না। আমি কথা বলা বন্ধ করতে পারিনি। এই মুখরতার কারণে আমার অনেক সহলেখক আহত হয়েছেন, কেননা আমার মুখ থেকে স্বভাবতই যা বেরিয়ে আসে তা হলো আছোলা সত্য। এখন আমি মধ্য বয়সে, শব্দগুলো ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। মনে হয়, মার অনুজ্ঞা মেনেই তারা এমন আচরণ করছে আর আমার দিকে চেয়ে দেখছে।
 

মো ইয়ানের শিফু, হাসির জন্য তুমি সবকিছু করবে বই থেকে


]]>
<![CDATA[চেনা ও অচেনা চীন]]>Wed, 16 May 2012 11:45:56 GMThttp://boierdokan.weebly.com/boiniye/3
মাহবুব মোর্শেদ
চীন দেশটা মিস্টিক; রহস্যাবৃত। কবির হুমায়ূনের চীন বিষয়ক বই ‘৩৯ পূর্ব হোয়া হুথং’ পড়তে পড়তে ভাবছিলাম চীনরহস্যের কারণ। সম্ভবত, দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট শাসনের আবর্তে থাকা দেশটি নিয়ে ভায়া ওয়েস্টার্ন মিডিয়া আমরা যে ধারণা পেয়েছি তাই চীনকে মিস্টিফাই করে তুলেছে। কমিউনিস্ট শাসনে থাকা চীনে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই, সেখানে ভিন্নমতাবলম্বীদের যখন তখন ধরে ধরে কারাবন্দি করে ফেলা হচ্ছে, কেউ কেউ পালিয়ে চীন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন, মিডিয়া-সমক্ষে ফাঁস করে দিচ্ছেন চীনের জারিজুরি এই আমাদের মোটামুটি ধারণা। থিয়ান আর মেন স্কোয়ারের ঘটনা আমরা কিছু জানি, কিছু অনুমান করি। আরও জানি যে, তিব্বতে অস্ত্রের মুখে দুঃশাসন চালাচ্ছে চীনারা। দালাই লামা সহ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে। নিজেদের মতো করে এখন গড়ে তুলছে রহস্য প্রদেশ তিব্বত। ওয়েস্টার্ন মিডিয়ার সূত্রে অবশ্য এও আমরা শুনেছি যে, চীন হলো আগামী পৃথিবীর অন্যতম অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাশক্তি। এশিয়ার ভারত ও চীন নাকি আগামী পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবে। অকল্পনীয় গ্রোথ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অগ্রগতি, আর উদারনীতির ফলে গড়ে ওঠা শিল্প চীনকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। চীনের দখলে এখন বিশ্ববাজার। চাইনিজ মাল অন্যদের মতো আমাদের বাজারকেও আকীর্ণ করে ফেলেছে। আর চীনের এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে পুরো পৃথিবীর ভাগ্যান্বেষীদের লক্ষ্য এখন চীন। সমানে তারা চীনা ভাষা শিখছে, চীনে শেকড় গাঁড়ার চেষ্টায় আছে।

বর্তমানের এই চৈনিক অভিজ্ঞানের বাইরেও চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। হিউয়েন সাঙ এদেশে এসেছেন মুসাফির হিসেবে। আমাদের দেশ থেকে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চীনে গিয়েছেন ধর্মসংস্কার করতে। তারও আগে বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটেছে চীনে। তাতে যে আমাদের দেশের লোকেরা অংশ নেয়নি তা নয়। চীন থেকে আমাদের দেশে এসেছে মাওবাদ। এককালে মাও সে তুংয়ের রেডবুক বাংলার তরুণদের মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ‘চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’ দেয়াল লিখনে ভরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বাংলা। সে যুগ এখন পুরনো। আগে পাড়ায় পাড়ায় সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত হতো চাইনিজ কুড়াল।  চাইনিজ কুড়াল ও মাওবাদের ব্যবহার ফিকে হয়ে গেলেও পাড়ায় পাড়ায় চাইনিজ রেস্তোরাঁর এখনও বাড়বাড়ন্ত। কীভাবে চীনা খাবার এদেশে এত জনপ্রিয় হলো তা নিশ্চয় গবেষণার বিষয় আর সে খাবারে কী পরিবর্তন ইতিমধ্যে হলো তাও বিচার করে দেখা যেতে পারে।

চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের নানামাত্রা সত্ত্বেও চীন এখনও অচেনা। এত কাছে থেকেও কেন এত অচেনা হয়ে রইলো চীন, সে এক প্রশ্ন বটে। আমার মতে, চীন সম্পর্কে তথ্যবহুল বাংলা বইপত্রের অভাবই এর বড় কারণ। তবে বইপত্র লেখার জন্য লেখকদের যেতে হবে চীনে। ব্যবসায়ীরা চীনে যান, রাজনীতিকরা যান, লেখকরা যান না। কেন যান না সে আরেক রহস্য। আর গেলেও কেন লেখেন না সেও একটা জটিল প্রশ্ন। কবি কবির হুমায়ূন চীনে গিয়ে আমাদের নগদ কিছু লাভ হলো। রহস্যের কিছু কিনারও হলো। চীন নিয়ে কবির হুমায়ূনের বই ‘৩৯ পূর্ব হোয়া হুথং’।

বইটির প্রথম সাফল্য হলো, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেল চীনরা আমাদের মতোই এশিয়ান। প্রেম বিয়ে বন্ধুত্ব বিষয়ে আমাদের সমান্তরাল মূল্যবোধ চীনারাও ধারণ করে। চীনারা বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে এর মধ্যে একটি সেন্ট্রাল একাডেমি অব ড্রামা। এই একাডেমিতেই ফিল্ম নিয়ে পড়তে গিয়েছিলেন কবির হুমায়ূন। সাকুল্যে ৫ বছর কাটিয়েছেন একাডেমিতে। এই একাডেমির ঠিকানা ৩৯ পূর্ব হোয়া হুথং। বইটি বলতে গেলে, এই একাডেমির বাইরে প্রায় যায়ইনি। একাডেমির বিভিন্ন সহপাঠিনীর সঙ্গে লেখকের বন্ধুত্বসূত্রে ক্যাম্পাসের বাইরে গেলেও চীনের বৃহত্তর চিত্রটা শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল না। একাডেমির নিয়ম-নীতি, শিক্ষাপদ্ধতি, চীনের সাম্প্রতিক নাটক-সিনেমা বিষয়েও কি খুব বেশি জানা গেল? না। ফিল্ম নিয়ে পড়েছেন কবির হুমায়ূন, চীনের ফিল্ম হিস্ট্রিটা তার পড়ার সূত্রে যদি আমাদের জানা হয়ে যেত তবে একটা বড় লাভ হতো। কবিতা নিয়ে ছোট্ট একটা অভিযানের বর্ণনা আছে। কিন্তু চীনের কবিতার কোনো ছবি তাতে স্পষ্ট হলো না।

তবে ড্রামা একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি চীনাদের দৃষ্টিভঙ্গি, ডরমেটরির জীবন, পানাহার, আড্ডা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেল। সবচেয়ে বেশি জানা গেল, একাডেমির মেয়েদের বিষয়ে।

মোটামুটিভাবে চীন বিষয়ে কবির হুমায়ূনের বইটি আত্মকেন্দ্রিক। সেখানে নায়ক তিনিই। তাকে চেনার জন্য বইটি যথেষ্ট সহায়ক হতে পারে। তবে, কবির হুমায়ূনও সেখানে অর্ধেক। চীনা অংশটাই বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি যে বাংলাদেশ থেকে গেছেন। একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে ৫ বছরে বাংলাদেশের বিশেষ কোনো ঘটনাপ্রবাহ, তার ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাকগ্রাউন্ড তাকে আলোড়িত করেনি বলেই মনে হবে বইটি পড়ে।

তবু চীন বিষয়ে না জানা অনেক কথাই বইটিতে আছে। কবির হুমায়ূনের দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কিন্তু যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন তা অন্তরঙ্গ। ভবিষ্যতে চীন সম্পর্কে অনেক কথা নিজেদের প্রয়োজনেই জানতে হবে আমাদের। সে পথে এ বইটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।

বইটি সুসম্পাদিত ও নির্ভুলভাবে ছাপা হলে আরও ভাল হতো। ভবিষ্যত সংস্করণে সেদিকে লেখক ও প্রকাশকের দৃষ্টি থাকবে বলে আমাদের আশা।

‘৩৬ পূর্ব হোয়া হুথং’ প্রকাশ করেছে ভাষাচিত্র। বইটি আজিজ মার্কেটে পাওয়া যায়। বইয়ের দোকানে ই-বুক আকারেও এটি এভেইলএবল।




]]>
<![CDATA[অনেকদিন পর একটা ভালো বই পড়ছি]]>Sun, 13 May 2012 07:30:08 GMThttp://boierdokan.weebly.com/boiniye/2ইমরুল হাসান
লালঘর। ইচক দুয়েন্দে। বাঙলায়ন। ফেব্রুয়ারি ২০১০। পৃষ্টা : ৬২। মূল্য: ১২৫ টাকা। প্রচ্ছদ: শিবু কুমার শীল।

‘পৃথিবীতে যে কারাগার নামে একটা জিনিস আছে, এ আমার জানাই ছিল না। বহুবার শুনেছিলাম। বর্ণনা শুনেছিলাম বহু মানুষের মুখ থেকে। বর্ণনাগুলি কি মনে রেখেছিলাম? এরকম একটা মর্মান্তিক জিনিস পৃথিবীতে আছে, সিরিয়াসলি তা নিয়ে কি ভেবেছিলাম?’ (পৃষ্টা-৫৯)


অনেকদিন পর রসাইয়া রসাইয়া একটা বই পড়লাম। ধীরে ধীরে, প্রতিটা শব্দ, বাক্য, ঘটনা দেখতে দেখতে... কী যে ভালো লাগলো!
আর আসলে ভক্তিভাব চইলা আসলে তো কথা বলা যায় না, নিরবতা চইলা আসে। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক এইরমও না। কোনো একটা নির্দিষ্ট ব্যাপার না যেইটা আকর্ষণ করছে, বরং এই ছোটখাট বইটার ভিতর অনেক জিনিস চোখে পড়ছে। সবচে’ বেশি যে জিনিসটা চোখে পড়ছে, ব্যক্তির সাথে সাথে, ঘটনার সাথে সাথে ভাষার ধরনটাও পাল্টাইতেছে... মনে হইছে যে জাগলিংটা উনি করলেন, এইরকমটা আর কোথাও কি দেখছি! খুবই অন্যরকম এই ঘটনা।
অথচ ঘটনা তো সাধারণ। একদল ভদ্রলোক (ছোট একটা সংজ্ঞাও তুলে দিলাম- নোট ১) মাল খাইতে গিয়া ধরা খাইছেন, তাদের একদিনের কারাগারবাসের গল্প। আর এই ঘটনা বলতে গিয়া লেখক ‘নাম’ নিয়া যা করলেন, সেইটা আরেক ঘটনা। এমনকি লেখক তাঁর নিজের নামও রাখছেন। একটা ‘নাম’ তো সাধারণ কোন ঘটনা না। রেড ইন্ডিয়ানরা যেমন ব্যক্তির নামকরণ করে, তার উল্লেখযোগ্য কোন ঘটনা দিয়া - ড্যান্সিং উইথ ওলফস, লেডি উইথ এ ফিস্ট... এইখানে উনার নামকরণগুলিতে শ্রুতিমধুরতা আছে, কোন অর্থবোকতা সাধারণ অর্থে, একবারেই নাই... তবে কিছু জিনিস মনে হইছে; চিকচাক রুই, একটা নেতা-গোছের নাম, ইমুস ক্যাটস, পাশ্চাত্য-দর্শনে আসক্ত... আবার, আগা আবদুর রহমান, নিতান্ত-ই একজন সান্ত্রী, শুধু টুকটাক লিখেন বইলা ‘আগা’ বিষয়টা সংযুক্ত হইছে, এইরম একটা একটা নাম হয়তো ব্যক্তি-বিশেষের প্রবণতার কথা বলে... কিন্তু এইরম নামকরণ এর অভিজ্ঞতা বাংলাভাষা কি আর কোনসময় নিছে?
বলতেছিলাম তাঁর ভাষার কথা, লেখক বা তাঁর চরিত্র যেইভাবে চিন্তা করে, ভাষার গঠন তো সেইভাবেই আসে... তবে ইদানিং ভাষা নিয়া যে বির্তক শুরু হইছে, এইটা দিয়াই আসলে টের পাওয়া যায়, চিন্তার অসহায়ত্ব কোন পর্যায়ে গিয়া পৌঁছাইলে, মানুষ কী বলা হইছে, তার দিকে নজর না দিয়া কীভাবে বলা হইতেছে, তার ওপর গিয়া হুমড়ি খাইয়া পড়ে... এই বির্তক বর্তমান বাংলাভাষায় চিন্তার অসারতার একটা চলমান উদাহারণ। আর এই দেখনদারির বিষয়টা তো আসলে একদিনে ঘটে নাই, ক্রমান্বয়ে আসছে... কিভাবে উচ্চারণটাই মুখ্য হয়া উঠলো, আমি শুনলাম তুমি কীভাবে বললা, কী বললা সেইটা আর মুখ্য না, কারণ তোমার তো বলার কিছুই নাই, ওই উচ্চারণটাই শুধু... যেমন কবিতা-লেখার চাইতে কবিতা-আবৃত্তি অনেকবেশি পপুলারিটি পাইলো... এইটা আলাদাভাবে দেখা গেল হয়তো খুব একটা খারাপ না, কিন্তু এইধরনের বিষয়গুলাই আসলে ট্রেন্ড সেট কইরা দিচ্ছে... তুমি যেইভাবে কথা বলো, বলতে চাও; সেইটারে আটকাইয়া দিয়া আমি তোমার চিন্তারেই কন্ট্রোল কইরা ফেলবো - ভাষার কারাগার (ব্যাকরণ) এ তোমারে ফেলে দিবো!
অন্যদিকে, ভাষা-ই কিন্তু চরিত্রগুলার ডেফিনেশন দিয়া দিতেছে... এই ভিন্নতাগুলি যদি আমরা আটকাইয়া ফেলি, তাইলে মানুষ হিসাবে তাদের চিন্তার ভিন্নতাগুলিরে আমরা কী কইরা প্রমাণ করবো?
আরেকটা জিনিস মনে হইছে, বাংলাদেশের গদ্যের মান যতোটা ম্যাচিউরড, কবিতা আসলে ততোটা হইতে পারে নাই। কারণ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মাহমুদুল হক রে সাইডলাইনে বসাইয়া দিলেও উনাদের প্রভাব আটকাইয়া রাখা যায় নাই, যার ফলে উনাদের পরে বাংলাদেশে গদ্য লিখতে হইলে যে শক্তিটা লাগে সেইটা না থাকলে কোন গদ্যই আর হয় না। কিন্তু কবিতার ক্ষেত্রে, শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণের যে ধারাবাহিকতারে জোর কইরা প্রতিষ্ঠিত করা হইতেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কবিতার কোন পাটাতনই দাঁড়াইতে পারে নাই... হয়তো কবিতার ব্যাপারটাও এইরমই, খুবই এবড়ো-খেবড়ো...
যা-ই হোক, কারাগার এর বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নগুলি খুব স্বাভাবিকভাবেই কাহিনির ভিতর দিয়া উঠে আসছে। ব্যক্তির অনিশ্চিয়তা, তার যোগাযোগ-ক্ষমতা, নৈতিকতা, রাষ্ট্র ও মিডিয়া... রাজনৈতিক নেতারা তো অনেকেই ছিলেন কারাগারে, উনারা কেন এইটা বন্ধ করলেন না? কেন এই চোর-পুলিশ খেলা চলতেই থাকবে? চরিত্রগুলিই এই কথাগুলি বলছে, আলাদা কইরা লেখকরে বলা লাগে নাই; যদিও একটা গোছানো ফর্ম এর ভিতর দিয়াই প্রসঙ্গগুলি আসছে, কোনকিছুই ইমপোজড মনে হয় নাই, মনে হইছে লেখক বিষয়টা ঠিক কইরা রিলেভেন্ট সবকিছুরে একত্রিত করছেন...
আমার পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে যদ্দূর মনে হইছে, সাহিত্যে ‘কারাগার’ মূলত আসছে রাজবন্দীর রোজনামচা অথবা প্রিজন নোট এর মতো, যেইখানে গেলে ‘চিন্তা’ করার সময় পাওয়া যায়, ক্রিয়েটিভ থিকিং আসে... কিন্তু ব্যাপারটা কি আসলে এইরম রোমান্টিক? সেইটা যে না, তা বলার মতো অন্তত একটা বই পাওয়া গেলো।
আমার বইটা পড়ে ভালো লাগছে আর মনে হইছে ভালোটা স্পষ্ট কইরা বলাটাও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
নোট ১:
‘ভদ্রলোকের কথাটা শুনে মনে মনে পস্তালাম। ঠিক, একদল ফিজিক্যালি ও মেন্টালি আনফিট লোকের মধ্যে আমি পড়ে গেছি। এরা বড্ড বকতে ভালবাসে, কিন্তু কোনো অ্যাকশন পছন্দ করে না।’ (পৃষ্টা - ২৮)


মার্চ ১৩, ২০১০

]]>
<![CDATA[ইমরুল হাসানের রাঙ্গামাটি]]>Thu, 10 May 2012 14:55:03 GMThttp://boierdokan.weebly.com/boiniye/1
মাহবুব মোর্শেদ
বই : রাঙ্গামটি, লেখক : ইমরুল হাসান, প্রথম প্রকাশ : এপ্রিল ২০১২, প্রকাশক : দুয়েন্দে, দাম : ১৫০টাকা।

বইটা হাতে নিয়াই কইলাম, আরেব্বাস! ২০০ কি ৩০০ গ্রাম অফসেটে ছাপা বই। যথেষ্ট ভারি। লেখকসূত্রে বিনামূল্যে এমন দামি বই পাইছি বইলা একটা সুখও অনুভব করলাম। প্রোডাকশন যথেষ্ট সুন্দর। ঝকঝকে তকতকে ৩৭ পৃষ্ঠার বই। তবে বাঁধাইয়ে একটা ঝামেলা আছে, পাতা উল্টায়ে রাখতে হইলে ভারী কিছু চাপা দিয়া রাখা লাগে। আর একটু আরামদায়ক বাঁধাই হইলে আরও ভাল হইতো।
বই কবিতার, কিন্তু বইয়ে লেখা হইছে 'একটি ভ্রমণ কাহিনি'। এই আত্মগোপনটা বইয়ের জন্য ভাল হইছে। যেন ডাক্তারের ছদ্মবেশে খুনি। এখানে অবশ্য মুসাফিরের ছদ্মবেশ নিছে কবি। কবিতা নিজেরে কবিতার বাইরের কোনো কিছু দিয়া চিনাইতে চাইতেছে, এর মধ্যে যে পরিহাসটা আছে সেইটা ভাল লাগলো প্রথমেই। বইয়ে লেখক একটা ভূমিকা লিখছেন। মানস চৌধুরীর লেখা একটা প্রতিক্রিয়াও অনুষঙ্গ নামে ছাপা হইছে বইয়ের শেষে।
অবশ্য অনুষঙ্গ পৌঁছানোর দরকার লাগে না, একেবারে শুরুতে উৎসর্গেই একটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দেখা মেলে। সব মিলায়ে মনে হইলো বইটা পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার চেষ্টা চালাইছে। সাহিত্যে, বিশেষ কইরা কবিতায় পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার ইচ্ছা কবির চিন্তার উপর আলাদা কইরা চাপ তৈরি করে কি না এইটা নিয়া আমি ভাবি। অনেকরেই দেখি, পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকতে গিয়া বেশি চাপ নিয়া ফেলেন। সাহিত্য শেষ পর্যন্ত সাহিত্য না হয়া, পলিটিক্যালি কারেক্ট হয়া উঠে বিবৃতিগুন অর্জন করে।
ইমরুল হাসানকে বাঁচায়ে দিছে তার ভেজা বেড়ালের ভাবটা। কবিতা পইড়া অবাক হয়া গেলাম। মনে হইলো, বেশ একজন রিলাকট্যান্ট পোয়েট। সাধারণ কথা, নির্দোষ টিপ্পনি, একেবারে সরল অভিব্যক্তি দিয়া ভ্রমণ কাহিনী অথবা কবিতা লেখা হইছে। পড়তে পড়তে ভাবতেছিলাম, ইমরুল হাসান তো আমার পছন্দের কবি। অন্তত এই বইয়ে। এত কিছুর পরও কবি যে বিস্ময়, আবিষ্কার ও নতুন দেখা তৈরি করতে পারেন এইটা ভাল লাগলো খুব।
পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার চেষ্টাটা শেষ পর্যন্ত ক্ষতিকর হয় নাই। রাঙ্গামাটি পইড়া আমি মুগ্ধ। এই লেখাটা লিখার পর কবি জানাইলেন রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটার সূচনা আসলে ঘটলে কবিতাগুলা লেখা হয়ে যাওনের পর। ফলে, কবি ও কবিতা বাঁইচা গেছে। আখেরে আমাদের লাভ হইছে।

]]>